শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক জটিলতা, মামলা-মোকদ্দমা, হয়রানি কিংবা শিক্ষক-কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের বিভিন্ন ইস্যুতে ধারাবাহিকভাবে পাশে দাঁড়ানোর কারণে গাজীপুরের শ্রীপুরে আলোচনায় রয়েছেন উপজেলা শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি ও হাজী ছোট কলিম স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আলহাজ আবদুল হান্নান সজল। স্থানীয় শিক্ষক সমাজের একটি অংশ বলছে, বিভিন্ন সংকটময় পরিস্থিতিতে তাঁর উদ্যোগ ও সমন্বয়মূলক ভূমিকার কারণে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে তাঁর প্রতি আস্থা বেড়েছে। ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হাজী ছোট কলিম স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক হিসেবে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দায়িত্ব পালন করে আসছেন আবদুল হান্নান সজল। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে উপজেলার অন্যতম সর্বাধিকসংখ্যক শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে।এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলেও প্রতিষ্ঠানটি ধারাবাহিকভাবে উপজেলার শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অবস্থান ধরে রেখেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। স্থানীয় শিক্ষক নেতাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে দল-মতের ঊর্ধ্বে থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদের ন্যায্য দাবি-দাওয়া, অধিকার সংরক্ষণ ও পেশাগত বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। বিশেষ করে ২০২৪-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রশাসনিক জটিলতা, মামলা ও হয়রানির মুখোমুখি হলে তাঁদের সমস্যার সমাধানে তিনি উদ্যোগী হন। শিক্ষক নেতাদের দাবি, এসব সমস্যা সমাধানে তিনি গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চুর পরামর্শ ও সহযোগিতায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন। তাঁদের মতে, এ উদ্যোগ শিক্ষক সমাজের মর্যাদা ও স্বার্থ রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা জানান, নিজ প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সমস্যার সমাধানেও সময় দিচ্ছেন আবদুল হান্নান সজল। ফলে শিক্ষা অঙ্গনে একজন সমন্বয়ক ও গ্রহণযোগ্য সংগঠক হিসেবে তাঁর পরিচিতি তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানের ভাষ্য, শিক্ষকবান্ধব সংগঠক হিসেবে ইতোমধ্যে তিনি উপজেলার শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক আস্থা অর্জন করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে শিক্ষক সমাজ আরও সুসংগঠিত হয়েছে বলেও তাঁদের অভিমত। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবদুল হান্নান সজল বলেন, আমার বাবা একজন শিক্ষক ছিলেন। সেই কারণেই শিক্ষকতা পেশার প্রতি আমার আলাদা শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রয়েছে। শিক্ষক সমাজের মর্যাদা ও ন্যায্য অধিকার রক্ষায় আমি সবসময় দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করেছি। শিক্ষক-কর্মচারীদের যৌক্তিক যেকোনো সমস্যায় পাশে থাকা আমি নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করি। তিনি আরও বলেন, শ্রীপুরে একটি নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও মানবিক শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলতে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই। স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু শিক্ষাখাতে সংস্কার ও উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছেন। তাঁর সহযোগিতায় উপজেলার শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”