দীর্ঘদিন রাজপথে সংগ্রাম করা ত্যাগী নেতা-কর্মীদের অবমূল্যায়নের অভিযোগে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। অভিযোগ উঠেছে, গত ১৭ বছর ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা অসংখ্য নেতা-কর্মী আজ উপেক্ষিত, আর নতুনভাবে দলে যোগ দেওয়া বিত্তশালীরা দখল করে নিচ্ছেন গুরুত্বপূর্ণ পদ-পদবি। ত্যাগী নেতাদের দাবি, বিগত সময়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও দমন-পীড়নের শিকার হয়ে অনেকেই ঘরছাড়া হয়েছেন, কারাবরণ করেছেন, এমনকি জীবিকা হারিয়েছেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের সেই ত্যাগ ও অবদান যথাযথ মূল্যায়ন পাচ্ছে না। বরং অর্থবিত্তের প্রভাবেই নেতৃত্ব নির্ধারিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক তৃণমূল নেতা বলেন, “যারা একসময় রাজপথে জীবন বাজি রেখে আন্দোলন করেছে, আজ তাদের খোঁজ নেওয়ার কেউ নেই। অথচ যারা গতকালও ভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ে ছিল, আজ অর্থের জোরে তারা দলে প্রভাব বিস্তার করছে। তারা আরও বলেন, দলের দুঃসময়ে যারা পাশে ছিল, তাদের বাদ দিয়ে সুযোগসন্ধানীদের প্রাধান্য দেওয়া হলে ভবিষ্যতে দলের জন্য বড় সংকট তৈরি হতে পারে। কারণ কঠিন সময়ে রাজপথে নামার মতো নিবেদিত কর্মী তখন আর পাওয়া যাবে না। ত্যাগী নেতাদের অভিযোগ, কিছু সিনিয়র নেতার আচরণেও পরিবর্তন এসেছে। তারা এখন তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ কমিয়ে দিয়েছেন এবং অর্থবিত্তশালীদের প্রতি বেশি ঝুঁকছেন। এতে করে দীর্ঘদিনের কর্মীরা নিজেকে অবহেলিত মনে করছেন। এ বিষয়ে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, দলের মূল শক্তি তৃণমূল। ত্যাগীদের বাদ দিয়ে কখনোই একটি রাজনৈতিক দল টিকে থাকতে পারে না। তাই দ্রুত তৃণমূলকে মূল্যায়ন এবং প্রকৃত কর্মীদের নেতৃত্বে আনার উদ্যোগ নিতে হবে। তারা সতর্ক করে বলেন, অর্থের দাপটে যদি রাজনীতি পরিচালিত হয়, তাহলে দল তার আদর্শ ও ভিত্তি হারাবে। আর সেই শূন্যতা একদিন বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের জোর দাবি, দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে ত্যাগী ও পরীক্ষিত কর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে। অন্যথায়, দলীয় ঐক্য ও শক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাবে