১৯৪১ সালে গাজীপুর জেলার পূর্ব ডগরী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আমার বাবা, প্রয়াত শিক্ষক জিল্লুর রহমান। ২০০৪ সালের এই দিনে ৯ জুলাই তিনি আমাদের ছেড়ে না-ফেরার দেশে পাড়ি জমান। কিন্তু তাঁর আদর্শ, শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধ আজও আমাদের পথ দেখায়। তিনি ছিলেন আমার জন্মদাতা , ছিলেন আমার শিক্ষক, অভিভাবক এবং জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রেরণার উৎস।বিদ্যালয়ের আঙিনায়, শ্রেণিকক্ষে ও অফিস কক্ষে তাঁকে দেখেছি একজন ভদ্র, মার্জিত, সৎ ও নিষ্ঠাবান শিক্ষক হিসেবে। তাঁর সুচারু পাঠদান, অমায়িক ব্যবহার এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিক ভালোবাসা তাঁকে সবার প্রিয় করে তুলেছিল। তাঁর শাসনেও ছিল স্নেহ, যা শিক্ষার্থীদের সঠিক পথে চলতে অনুপ্রাণিত করত। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি একজন সংগঠক হিসেবে এলাকার সাহসী যুবকদের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ করেন এবং যুদ্ধে পাঠাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দেশপ্রেম ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম শক্তি। তিনি ছিলেন প্রকৃতিপ্রেমী মানুষ। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নিজ হাতে বহু বৃক্ষরোপণ করেছেন এবং শিক্ষার্থীদেরও গাছ লাগাতে উৎসাহিত করতেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল, শিক্ষা ও পরিবেশ—দুটিই একটি জাতির ভবিষ্যৎ গঠনের ভিত্তি। পরিবারের প্রতিও তাঁর দায়বদ্ধতা ছিল অসাধারণ। আমাদের পাঁচ ভাই-বোনদের লেখাপড়ার দায়িত্ব নিয়ে তাঁদের স্নাতকোত্তর পর্যন্ত পড়াশোনা সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করেছেন। আমাদেরও সব সময় আদর্শের কথা শুনিয়েছেন, সত্য ও ন্যায়ের পথে চলার শিক্ষা দিয়েছেন। অন্যায়, অসত্য ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন আপসহীন। আজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় তাঁকে স্মরণ করছি। মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করি, তিনি যেন তাঁর সকল নেক আমল কবুল করেন, তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করেন এবং তাঁর যে আদর্শ আমাদের হৃদয়ে চিরদিন বেঁচে থাকে। বাবার জন্য দোয়া চাই আপনার ও আপনাদের। আমিন। হাবিবুর রহমান, একজন গণমাধ্যমকর্মী, গাজীপুর।