June 13, 2026, 11:38 am
শিরোনাম:
ইনকিলাবের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন: গণমানুষের কণ্ঠস্বরকে অভিনন্দন জানাল মৎস্যজীবী দল গাজীপুরে পোশাক কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৫ ইউনিটের প্রাণপণ চেষ্টা গাকৃবি শিক্ষকদের প্রতিবাদ: বহিরাগত প্রো-ভিসি নিয়োগ পুনর্বিবেচনার দাবি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো ভাইস-চ্যান্সেলর হিসেবে প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ-এর যোগদান ডুয়েট শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সুবিধা সহজসাধ্য করতে জয়দেবপুর জংশনে সকল আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতির জন্য ভিসি মহোদয়ের উদ্যোগ ফুয়াং টাইলস মডেল স্কুলে শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃক্ষের চারা বিতরণ রাজেন্দ্রপুরে উত্তরা ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী বহনকারী বাস দুর্ঘটনা, অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা ভ্রাম্যমান আদালতের ম্যাজিট্ট্রেটের উপর হামলার চেষ্টা গাজীপুরে ডেকর ওয়েট প্রসেসিংকে ২ লাখ টাকা জরিমানা গাজীপুরে গাছে গাছে কাঁঠাল, বাম্পার ফলনে খুশি চাষি ও ব্যবসায়ীরা উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

গাজীপুরের শালদহ বিলে চায়না জালির দৌরাত্ম্য, নিধন হচ্ছে মা মাছ ও পোনা — হুমকির মুখে জলজ জীববৈচিত্র্য

গাজীপুর প্রতিনিধি

গাজীপুর সদর উপজেলার পিরুজালী এলাকার শালদহ বিল ও সংযুক্ত খালগুলোতে ভয়াবহ আকারে বেড়েছে অবৈধ চায়না জালির ব্যবহার। শত শত চায়না জাল বসিয়ে নির্বিচারে ধরা হচ্ছে মা মাছ, ডিমওয়ালা মাছ ও বিভিন্ন প্রজাতির পোনা মাছ। স্থানীয়দের অভিযোগ, দ্রুত এই অবৈধ জাল বন্ধ না করা হলে অচিরেই শালদহ বিল থেকেও হারিয়ে যাবে দেশীয় মাছের অস্তিত্ব। সরেজমিনে দেখা যায়, বিল ও খালের বিভিন্ন স্থানে ছোট ফাঁসের চায়না জাল পেতে মাছ শিকার চলছে দিন-রাত। এসব জালে আটকা পড়ছে মাছের ডিম, রেণু ও ছোট ছোট পোনা। ফলে মাছের প্রজনন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, এটি শুধু একটি বিলের সমস্যা নয়, বরং পুরো এলাকার জলজ পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য ভয়ংকর হুমকি। এলাকাবাসী জানান, আশপাশের অধিকাংশ খাল-বিল ইতোমধ্যে শিল্পকারখানার দূষিত পানি ও দখলের কারণে মাছশূন্য হয়ে পড়েছে। একসময় যেসব খালে-বিলে দেশীয় প্রজাতির টেংরা, শিং, কৈ, পাবদা, মাগুর ও বিভিন্ন ছোট মাছ পাওয়া যেত, এখন সেখানে মাছের দেখা মিলছে না। এর মধ্যেও শালদহ বিল ছিল স্থানীয় মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল। কিন্তু সেখানে অবাধে চায়না জাল ব্যবহারের ফলে দ্রুত ধ্বংস হচ্ছে প্রাকৃতিক মৎস্য সম্পদ। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চায়না জালি মানেই মাছের কবর। এই জাল কোনো মাছকে বড় হওয়ার সুযোগ দেয় না। ডিমওয়ালা মা মাছ পর্যন্ত রক্ষা পাচ্ছে না। প্রশাসন যদি এখনই কঠোর ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এ অঞ্চলের খাল-বিল সম্পূর্ণ মাছশূন্য হয়ে যাবে। পরিবেশ সচেতনরা বলছেন, অবৈধ চায়না জাল শুধু মাছ নিধনই করছে না, এটি জলজ খাদ্যচক্র ও পরিবেশের ভারসাম্যও ধ্বংস করছে। প্রজনন মৌসুমে মা মাছ নিধনের ফলে দেশীয় মাছের উৎপাদন ভয়াবহভাবে কমে যেতে পারে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে স্থানীয় জেলে সম্প্রদায় ও সাধারণ মানুষ। তারা অবিলম্বে শালদহ বিল ও আশপাশের খালে অভিযান চালিয়ে চায়না জালি অপসারণ, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিলের পরিবেশ রক্ষায় স্থায়ী মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়দের প্রশ্ন—যেখানে সরকার দেশীয় মাছ রক্ষা ও জলজ পরিবেশ সংরক্ষণে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে, সেখানে প্রকাশ্যে অবৈধ চায়না জাল ব্যবহার চললেও সংশ্লিষ্টদের নীরবতা কেন।



ফেসবুকে আমরা