October 29, 2026, 4:33 pm
শিরোনাম:
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে গাকৃবি উপাচার্যের সাক্ষাৎ গবেষণা, উদ্ভাবন ও কৃষি উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতি তুলে ধরলেন উপাচার্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নজীবুর রহমানের শোকসভা অনুষ্ঠিত গাজীপুর সদর হাসপাতালে ছারপোকা, দুর্গন্ধ ও লিফটের ভোগান্তি; উন্নত পরিবেশের দাবি উপাচার্যের সঙ্গে ক্লাব প্রতিনিধিবৃন্দের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত গাজীপুরে গ্রীন হাসপাতালে নবজাতকের বিশেষ পরিচর্যা ইউনিট উদ্বোধন বন ও পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের নতুন কমিটি গঠন, সভাপতি রাব্বি ও সাধারণ সম্পাদক হাফিজ উদ্দিন ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিএনপির সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ, উদ্বোধন করেন রুহুল কবির রিজভী ভাওয়াল রাজদিঘীসহ গাজীপুরের সব খাস পুকুর উদ্ধারের দাবিতে সমাবেশ অনুষ্ঠিত টঙ্গীতে গ্যাস লিকেজে একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ, সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক জুরাইন ও হাতিরঝিলে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে মৎস্যজীবী দল নেতৃবৃন্দ

এক মহাকাব্যের সমাপ্তি: গণতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়ার বিদায়ে শোকস্তব্ধ জাতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের রাজনীতির এক অনন্য অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটলো। বিএনপির চেয়ারপার্সন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ‘গণতন্ত্রের মা’ হিসেবে পরিচিত বেগম খালেদা জিয়া আর নেই। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, ত্যাগ ও দৃঢ়তার প্রতীক এই নেত্রী ইহজগতের মায়া ত্যাগ করে মহান আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। এক কঠিন ও সংকটময় সময়ে বিএনপির হাল ধরেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর এবং বিচারপতি সাত্তারের রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ সেনাপ্রধান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের ক্ষমতা দখলের মধ্য দিয়ে দেশে শুরু হয় অন্ধকার অধ্যায়। সেই সময় বিএনপি চরম সাংগঠনিক সংকটে পড়ে। ঠিক তখনই রাজনীতির দৃশ্যপটের বাইরে থাকা এক গৃহিণীকে রাজনীতির মূল স্রোতে নিয়ে আসে সময়ের নির্মম বাস্তবতা। রাজনীতির চৌকাঠে পা রাখার কথা যাঁর কল্পনাতেও ছিল না, সেই বেগম খালেদা জিয়াই পরবর্তীতে শহীদ জিয়ার প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপিকে শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানে রূপ দেন। যদিও বিএনপির আদর্শিক আইকন ছিলেন জিয়াউর রহমান, তবে দলকে এই পর্যায়ে নিয়ে আসার পেছনে ছিল বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশব্যাপী তার রাজনৈতিক পরিচিতি দৃঢ় হয়। আন্দোলনের অগ্রভাগে থেকে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে তিনি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেন। সেই আস্থারই ফলশ্রুতিতে ১৯৯১ সালে বিএনপি জনগণের বিপুল সমর্থনে রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। রাজনীতিতে আসার এক দশকের মধ্যেই তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। শুরুর দিকে রাজনৈতিকভাবে কিছুটা অনভিজ্ঞ হলেও দৃঢ়তা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে তিনি সরকার পরিচালনা করেন। নারী অধিকার ও নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন পথিকৃৎ। একটি রক্ষণশীল সমাজে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি ভেঙে দেন বহু কুসংস্কার ও সামাজিক বাধা। গণতন্ত্রের প্রতি তার অবিচল বিশ্বাসের কারণেই গত দীর্ঘ ১৭ বছরে তিনি স্বৈরাচারী সরকারের সঙ্গে একবিন্দুও আপস করেননি। এই সময়ে তাকে দিতে হয়েছে সীমাহীন ত্যাগ। স্বামী ও সন্তান হারানোর বেদনা, বারবার কারাবরণ, স্বামীর স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি থেকে উচ্ছেদ—সবকিছুই তিনি সহ্য করেছেন নীরব দৃঢ়তায়। একমাত্র পুত্র তারেক রহমান রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশের বাইরে নির্বাসিত জীবনযাপন করতে বাধ্য হন। মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ফরমায়েশি রায়ের মাধ্যমে বন্দিত্ব বরণ করলেও তার মনোবল ভাঙা যায়নি। সুস্থ শরীরে কারাগারে প্রবেশ করলেও তিনি বেরিয়ে আসেন হুইলচেয়ারে—তবুও মুখে ছিল দৃঢ় প্রত্যয়। জনগণের পাশে থেকে বারবার গণতন্ত্রের সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়ায় তিনি ‘দেশনেত্রী’ ও ‘গণতন্ত্রের মা’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। শত প্রতিকূলতার মাঝেও তিনি দলের সিনিয়র নেতাদের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে তুলতে তারেক রহমানকে প্রস্তুত করেছেন। তার দূরদর্শী নেতৃত্বের ফলেই ২৪-এর ৩৬ জুলাই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর স্বৈরাচারী সরকারের পতনের প্রেক্ষাপটে বিএনপি দ্রুত একটি নির্বাচনমুখী রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে সক্ষম হয়। শহীদ জিয়াউর রহমান ছিলেন জাতির আদর্শিক পিতা, আর বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন মাতৃসম সংগঠনিক অভিভাবক—একজন আদর্শ মা। তার পুরো জীবন ছিল সংগ্রাম, সাফল্য ও অনুপ্রেরণার এক মহাকাব্য। আজ সেই মহাকাব্যেরই সমাপ্তি ঘটলো। মহান আল্লাহ যেন তার জীবনের সকল ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে দিয়ে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করেন—এই দোয়াই জানায় শোকাহত জাতি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল সাবেক সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক কেন্দ্রীয় কমিটি, ওমর ফারুক পাটোয়ারী।



ফেসবুকে আমরা