October 29, 2026, 7:49 pm
শিরোনাম:
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে গাকৃবি উপাচার্যের সাক্ষাৎ গবেষণা, উদ্ভাবন ও কৃষি উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতি তুলে ধরলেন উপাচার্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নজীবুর রহমানের শোকসভা অনুষ্ঠিত গাজীপুর সদর হাসপাতালে ছারপোকা, দুর্গন্ধ ও লিফটের ভোগান্তি; উন্নত পরিবেশের দাবি উপাচার্যের সঙ্গে ক্লাব প্রতিনিধিবৃন্দের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত গাজীপুরে গ্রীন হাসপাতালে নবজাতকের বিশেষ পরিচর্যা ইউনিট উদ্বোধন বন ও পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের নতুন কমিটি গঠন, সভাপতি রাব্বি ও সাধারণ সম্পাদক হাফিজ উদ্দিন ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিএনপির সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ, উদ্বোধন করেন রুহুল কবির রিজভী ভাওয়াল রাজদিঘীসহ গাজীপুরের সব খাস পুকুর উদ্ধারের দাবিতে সমাবেশ অনুষ্ঠিত টঙ্গীতে গ্যাস লিকেজে একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ, সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক জুরাইন ও হাতিরঝিলে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে মৎস্যজীবী দল নেতৃবৃন্দ

নৌকায় ভাসমান হাট: কাঁঠালের বিনিময়ে মটর ভাজা আর মাটির হাঁড়ি-পাতিল—বাংলার হারিয়ে যাওয়া দিনগুলো

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলার গ্রামীণ জনপদের ইতিহাসে এক সময় ছিল, যখন হাট-বাজার মানেই শুধু নির্দিষ্ট কোনো স্থান নয়—বরং হাট নিজেই ভেসে যেত মানুষের দোরগোড়ায়। বিশেষ করে ১৯৯০-এর দশকের দিকে দেশের হাওর ও নদীবেষ্টিত এলাকায় দেখা যেত এমনই এক ব্যতিক্রমী দৃশ্য—নৌকায় করে ঘুরে ঘুরে বিক্রি হতো মটর ভাজা, বাহারি বেহাতি জিনিসপত্র, আর মাটির তৈরি হাঁড়ি-পাতিলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় নানা সামগ্রী। সে সময় ফেরিওয়ালাদের ছোট ছোট নৌকা যেন ছিল এক একটি ভাসমান দোকান। নৌকার এক পাশে বড় বড় ডেকচিতে রাখা থাকত সুস্বাদু মটর ভাজা, চানাচুর বা বিভিন্ন রকমের নাস্তা। অন্য পাশে সাজানো থাকত মাটির তৈরি হাঁড়ি, পাতিল, কলস, থালা, এমনকি রান্নার কাজে ব্যবহৃত নানা পাত্র। কোথাও আবার থাকত হাতে বানানো বেহাতি বা বাহারি গৃহস্থালি সামগ্রী, যা গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল।সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় ছিল—এই কেনাবেচায় সবসময় টাকা লাগত না। অনেক ক্ষেত্রেই গ্রামের মানুষ তাদের গাছের কাঁঠাল, কলা, ধান বা অন্য কোনো কৃষিপণ্য দিয়ে বিনিময় করতেন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। এই পণ্য বিনিময় প্রথা ছিল সহজ, আন্তরিক এবং পারস্পরিক নির্ভরতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। বর্ষাকালে যখন চারপাশ পানি দিয়ে ভরে যেত, তখন এসব নৌকাই হয়ে উঠত গ্রামের মানুষের একমাত্র চলমান বাজার। ফেরিওয়ালারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ডাক দিতেন, আর শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বয়স্করাও ভিড় জমাতেন সেই নৌকার চারপাশে। মটর ভাজার ঘ্রাণ আর নতুন মাটির হাঁড়ির গন্ধ মিলে তৈরি হতো এক অনন্য পরিবেশ। স্থানীয় প্রবীণদের মতে, এটি ছিল শুধু কেনাবেচা নয়—একটি সামাজিক বন্ধনের অংশ। ফেরিওয়ালাদের সঙ্গে গড়ে উঠত আত্মিক সম্পর্ক, তারা হয়ে উঠতেন পরিবারেরই একজনের মতো।বর্তমান সময়ে আধুনিক বাজারব্যবস্থা, সহজ যোগাযোগ এবং নগদ অর্থের ব্যবহারের কারণে এই চিত্র প্রায় বিলুপ্ত। নৌকায় ভাসমান সেই হাট, মটর ভাজা বিক্রেতা, আর মাটির হাঁড়ি-পাতিলের দোকান এখন শুধুই স্মৃতির পাতায় রয়ে গেছে। তবুও, সেই সময়ের এই অনন্য জীবনচিত্র আমাদের মনে করিয়ে দেয়—সহজ-সরল জীবন, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং শিকড়ের টানই ছিল গ্রামীণ বাংলার প্রকৃত শক্তি



ফেসবুকে আমরা