October 29, 2026, 5:26 pm
শিরোনাম:
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে গাকৃবি উপাচার্যের সাক্ষাৎ গবেষণা, উদ্ভাবন ও কৃষি উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতি তুলে ধরলেন উপাচার্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নজীবুর রহমানের শোকসভা অনুষ্ঠিত গাজীপুর সদর হাসপাতালে ছারপোকা, দুর্গন্ধ ও লিফটের ভোগান্তি; উন্নত পরিবেশের দাবি উপাচার্যের সঙ্গে ক্লাব প্রতিনিধিবৃন্দের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত গাজীপুরে গ্রীন হাসপাতালে নবজাতকের বিশেষ পরিচর্যা ইউনিট উদ্বোধন বন ও পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের নতুন কমিটি গঠন, সভাপতি রাব্বি ও সাধারণ সম্পাদক হাফিজ উদ্দিন ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিএনপির সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ, উদ্বোধন করেন রুহুল কবির রিজভী ভাওয়াল রাজদিঘীসহ গাজীপুরের সব খাস পুকুর উদ্ধারের দাবিতে সমাবেশ অনুষ্ঠিত টঙ্গীতে গ্যাস লিকেজে একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ, সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক জুরাইন ও হাতিরঝিলে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে মৎস্যজীবী দল নেতৃবৃন্দ

গাজীপুরের ভাওয়াল রেঞ্জে বনভূমি দখলের মহোৎসব! অভিযোগের তীরে বিট অফিসার নাসির উদ্দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক

গাজীপুরের ভাওয়াল রেঞ্জের ভবানীপুর বিট এলাকায় বনভূমি দখল ও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নীরবতা ও যোগসাজশে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে দখলদাররা। সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভবানীপুর পূর্বপাড়া এলাকায় নিজাম হাজীর চাউলের গোডাউনের দক্ষিণ পাশে বনভূমির ভেতরে প্রায় দুই মাস আগে আলমগীর  দুইটি পাকা রুম নির্মাণ করেন। একইভাবে তার ছোট ভাই রাজুও সেখানে আরও দুইটি পাকা রুম নির্মাণ করিতেছে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিট অফিসার নাসির উদ্দিনকে জানানো হলেও তিনি “ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে” বলে আশ্বাস দেন। তবে বাস্তবে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এসব অবৈধ স্থাপনা নির্মাণে মৌখিক অনুমতি দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, ভবানীপুর চৌরাস্তার মোড়ের পচ্চিম পাশে শাহিনুর, দুইটি রুম নির্মাণ করিতেছ। ভবানীপুর চৌরাস্তার মোড়ের উত্তর ও পর্ব পাশে, সুরুজ দুইটি পাকা রোম নির্মাণ শেষে বর্তমানে প্লাস্টারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তথ্যানুসন্ধানে আরও জানা যায়, বন প্রহরী শাজাহান আলী ও মিজানুর রহমান সরাসরি এই দখল বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে—বনের জমি রক্ষার দায়িত্বে থাকলেও তারা উল্টো বন ধ্বংসে সহায়তা করছেন। এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, তারা বিট অফিসার নাসির উদ্দীনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন।
আইন কী বলছে? বাংলাদেশের বন আইন অনুযায়ী, সংরক্ষিত বনভূমিতে কোনো প্রকার স্থাপনা নির্মাণ সম্পূর্ণ অবৈধ। বাংলাদেশ বন আইন, ১৯২৭ এর ধারা অনুযায়ী বনভূমি দখল, গাছ কাটা বা স্থাপনা নির্মাণ শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এছাড়া বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী বনভূমির পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য নষ্টকারী যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। পরিবেশবিদদের মতে, এভাবে বনভূমি দখল ও স্থাপনা নির্মাণ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে। ভাওয়াল বনাঞ্চল দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ, যা রক্ষা করা রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। স্থানীয়দের দাবি: দ্রুত সময়ের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বনভূমি রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। শেষ কথা:
বন রক্ষার দায়িত্বে যারা, তারাই যদি বন ধ্বংসের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন—তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কী রেখে যাচ্ছি আমরা—এ প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সচেতন মহলে।



ফেসবুকে আমরা