গাজীপুরের হোতাপাড়া এলাকায় অবস্থিত সুলতানা ইয়ার্ন ডাইং কারখানায় অবৈধ গ্যাস ব্যবহারের অভিযোগে অভিযান চালিয়েছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড। মঙ্গলবার সকালে তিতাস গ্যাস গাজীপুর আঞ্চলিক ভিজিলেন্স বিভাগ পরিচালিত এ অভিযানে কারখানাটির বৈধ সংযোগের পাশাপাশি একটি গোপন বাইপাস লাইনের মাধ্যমে গ্যাস ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। ফলে তাৎক্ষনিকভাবে কারখানার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তিতাসের গাজীপুর আঞ্চলিক ভিজিলেন্স বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মোঃ শাহীদুর রহমান জানান, সুলতানা ইয়ার্ন ডাইং তিতাসের একজন বৈধ গ্রাহক হলেও দীর্ঘদিন ধরে তারা অনুমোদনবহির্ভূত একটি সংযোগের মাধ্যমে অতিরিক্ত গ্যাস ব্যবহার করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে অবৈধ সংযোগটি শনাক্ত করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে বিচ্ছিন্ন করা হয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, অনুসন্ধানে জানা গেছে কারখানাটি প্রায় পাঁচ বছর ধরে অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহার করে আসছে। তারা এক ইঞ্চি ব্যাসের পাইপ দিয়ে মিটারবহির্ভূত আন্ত:সংযোগের মাধ্যমে পুরো কারখানায় গ্যাস সরবরাহ করতো। এর ফলে প্রতি মাসে প্রায় ৫০ লাখ টাকারও বেশি রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। সেই হিসাবে গত কয়েক বছরে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযান শেষে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি কারখানাটিতে কিলিং ক্যাপিং করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিতাসের কর্মকর্তারা। তারা আরও জানান, বিষয়টি তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অবৈধ গ্যাস ব্যবহার ও রাজস্ব ফাঁকি রোধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তারা। এ ঘটনায় শিল্পাঞ্চলজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, অবৈধ গ্যাস ব্যবহার ও সরকারি রাজস্ব ফাঁকির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে এ ধরনের অনিয়ম অনেকাংশে কমে আসবে। অভিযানে তিতাসের গাজীপুর আঞ্চলিক ভিজিলেন্স বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মোঃ শাহীদুর রহমান, ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আলী নওরোজ রাহাত, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মতিয়ার, মনি শংকর রায়, আতাউর রহমান, সহকারী প্রকৌশলী (জোবিও শ্রীপুর) শাকিল আহমেদ, সহকারী ব্যবস্থাপক (জোবিও শ্রীপুর) মোয়াজ হোসেনসহ অন্যান্য কর্মকর্তাগন উপস্থিত ছিলেন।