June 18, 2026, 9:43 am
শিরোনাম:
কালিয়াকৈর চন্দ্রায় পানি পান করে অসুস্থ, শতাধিক শ্রমিক হাসপাতালে মোরশেদা খাতুন দিলারার লেখা থেকে– পলাশীর রক্ত! পলাশীর আর্তনাদ! ড. মাজহারুল আলম, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হোতাপাড়ায় মাদকের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর মানববন্ধন, মাদক নির্মূলে কঠোর আইন প্রয়োগের দাবি লোকজ আবহে খুলনায় এসএসসি ৮৬ বন্ধুদের গ্রীষ্মকালীন ফল উৎসব ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত বাউবিতে ‘বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ২০২৬-২০৩০’ উদ্বোধন: সবুজ ক্যাম্পাস গড়ার প্রত্যয় হোতাপাড়া-পিরুজালী সড়কের বেহাল দশা: উন্নয়নের দাবিতে ক্ষোভ, দুর্ভোগে লাখো মানুষ গাজীপুরে ৩ লাখ ৯৪ হাজার অর্থনৈতিক ইউনিটে কর্মরত ২৫ লাখের বেশি মানুষ শিল্প ও কর্মসংস্থানে দেশের শীর্ষ জেলাগুলোর একটি গাজীপুর গাজীপুরে ৫ একর বনভূমি উদ্ধার, মনিপুর বিটে ৫ হাজার চারা রোপণের কার্যক্রম চলমান ছোট উদ্যোগই একদিন বিশ্ব জয় করে— ডিসি গাজীপুর

পলাশীর রক্ত! পলাশীর আর্তনাদ! ড. মাজহারুল আলম, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৩ জুন, ১৭৫৭—বাংলার ইতিহাসের এক বেদনাবিধুর দিন। পলাশীর প্রান্তরে সংঘটিত সেই যুদ্ধ শুধু একটি যুদ্ধের পরাজয় ছিল না; এটি ছিল একটি জাতির স্বাধীনতার সূর্যাস্ত, বিশ্বাসঘাতকতার কালো অধ্যায়ের সূচনা এবং প্রায় দুই শতাব্দীর ঔপনিবেশিক শাসনের ভিত্তিপ্রস্তর। হায় পলাশী, অভিশপ্ত পলাশী! বিনাশুল্কে বাণিজ্যের নামে আগত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির বণিকেরা ধীরে ধীরে তাদের বাণিজ্যের মানদণ্ডকে রূপ দিয়েছিল শাসনের বিষাক্ত রাজদণ্ডে। ষড়যন্ত্র, বিশ্বাসঘাতকতা ও ক্ষমতার লোভে বাংলার স্বাধীনতার দুর্গ ভেঙে পড়েছিল মীরজাফরদের কূটচালে। কাশিমবাজারের কুঠি থেকে শুরু হওয়া সেই অশুভ ছায়া ছড়িয়ে পড়েছিল সমগ্র বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যায়। নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ছিল না শুধু একজন শাসকের পতন; এটি ছিল বাংলার স্বাধীন সত্তার ওপর নির্মম আঘাত। পলাশীর আম্রকাননে অস্ত গিয়েছিল স্বাধীনতার সোনালি সূর্য। সেই দিন থেকে শুরু হয়েছিল শোষণ, লুণ্ঠন ও বঞ্চনার দীর্ঘ অধ্যায়। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ভাষায়—
কান্ডারী! সম্মুখে তোমার পলাশীর প্রান্তর, বাঙালির রক্তে লাল হয়েছে ক্লাইভের খঞ্জর। পলাশীর শিক্ষা আজও সমান প্রাসঙ্গিক। ইতিহাস আমাদের শেখায়, বহিঃশত্রুর চেয়ে ভয়ংকর হলো অন্তর্ঘাতকারী ও বিশ্বাসঘাতকরা। যখন জাতি বিভক্ত হয়, যখন ব্যক্তিস্বার্থ দেশপ্রেমকে গ্রাস করে, তখন স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়ে। আজ পলাশী আমাদের কাছে শুধু অতীতের স্মৃতি নয়; এটি সতর্কতার প্রতীক। নতুন প্রজন্মকে জানতে হবে কীভাবে ষড়যন্ত্র ও বিভেদের কারণে একটি সমৃদ্ধ জনপদ পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়েছিল। ইতিহাসের সেই রক্তাক্ত অধ্যায় থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের ঐক্য, দেশপ্রেম ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। পলাশীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে আমরা অঙ্গীকার করি—বাংলার স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার রক্ষায় আমরা সর্বদা ঐক্যবদ্ধ থাকব। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি যেন আর কখনো না ঘটে, সেই প্রত্যয়ে ২৩ জুন আমাদের জাতীয় চেতনায় চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। হায় পলাশী! তোমার রক্তাক্ত স্মৃতি আজও আমাদের জাগিয়ে রাখে, সতর্ক করে, পথ দেখায়।ইতিহাসের সেই আর্তনাদ এখনো ধ্বনিত হয় বাংলার আকাশে-বাতাসে—ঐক্যবদ্ধ হও, দেশকে ভালোবাসো, স্বাধীনতার মর্যাদা রক্ষা করো।



ফেসবুকে আমরা