রাজনীতির মাঠে একজন নেতার সফলতার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান থাকে তৃণমূলের কর্মীদের। আন্দোলন-সংগ্রাম, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং নেতাদের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে নিবেদিত প্রাণ কর্মীরাই মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেন। কিন্তু বাস্তবতায় অনেক সময় দেখা যায়, দীর্ঘদিন রাজপথে শ্রম ও ত্যাগ স্বীকার করা কর্মীরাই সবচেয়ে বেশি অবহেলিত ও মূল্যায়নহীন থেকে যান। এমনই বক্তব্য তুলে ধরেছেন বিএনপির ত্যাগী কর্মী মেজবাহ সেলিম। তিনি বলেন, নেতৃত্ব মানে শুধু বড় পদে আসীন হওয়া নয়, প্রকৃত নেতৃত্ব হলো কর্মীদের হৃদয়ে স্থান করে নেওয়া। একজন নেতা যত বড়ই হোন না কেন, কর্মীদের ভালোবাসা, শ্রম, ত্যাগ ও নিষ্ঠা ছাড়া তার অবস্থান কখনোই পূর্ণতা পায় না। কারণ কর্মীরাই একটি সংগঠনের প্রাণশক্তি এবং তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমেই একটি রাজনৈতিক দল শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। তিনি আরও বলেন, কর্মীরা কখনো নেতাদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ পোষণ করেন না, বরং অভিমান করেন। কারণ তারা দলকে ভালোবাসেন, নেতাকে ভালোবাসেন। তারা চায় সামান্য সম্মান, একটু মূল্যায়ন এবং আন্তরিক আচরণ। কিন্তু যখন বছরের পর বছর আন্দোলন-সংগ্রামে পাশে থাকার পরও তাদের মূল্যায়ন করা হয় না, তখন তাদের মনে কষ্ট জন্ম নেয়। আর এই অবহেলা সংগঠনের জন্যও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। মেজবাহ সেলিমের মতে, যে নেতা কর্মীদের সুখ-দুঃখ বোঝেন, বিপদে পাশে দাঁড়ান এবং তাদের প্রাপ্য মর্যাদা নিশ্চিত করেন, সেই নেতা-ই প্রকৃত অর্থে সফল ও জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। কারণ কর্মীদের আস্থা ও ভালোবাসাই একজন নেতার সবচেয়ে বড় শক্তি। তিনি বলেন, একটি সংগঠনকে শক্তিশালী ও গতিশীল করতে হলে কর্মীদের অবহেলা নয়, বরং যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে। কর্মীদের মন জয় করতে পারলে সংগঠনের ভিত আরও মজবুত হবে এবং নেতৃত্বও হবে দীর্ঘস্থায়ী ও সফল। রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন মানবিক ও কর্মীবান্ধব নেতৃত্ব—যেখানে তৃণমূলের কর্মীদের ত্যাগ, শ্রম ও অনুভূতির যথাযথ মর্যাদা দেওয়া হবে। কারণ নেতারা বড় হন কর্মীদের ভালোবাসায়, আর কর্মীরাই নেতার প্রকৃত শক্তি