সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল ১১টায় গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সামনে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের সংরক্ষিত শালবনের অভ্যন্তরে বর্জ্য ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) নির্মাণের প্রতিবাদ এবং প্রকল্পটি স্থায়ীভাবে বাতিলের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে বন ও পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার মো. সাইফুল ইসলাম লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এ সময় বক্তব্য দেন সংগঠনের সদস্য সচিব রাব্বি খান, যুগ্ম আহ্বায়ক আরমান হোসাইনসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও পরিবেশকর্মী, স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।লিখিত বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান গাজীপুরের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের অন্যতম প্রধান আশ্রয়স্থল। এই বন শুধু গাজীপুরের নয়, সমগ্র দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। এমন একটি সংরক্ষিত বনভূমির ভেতরে বর্জ্য ট্রান্সফার স্টেশন নির্মাণ পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করবে। তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের শুরু থেকে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের ৬ নম্বর প্রবেশপথ এলাকায় বর্জ্য ফেলা শুরু করে এবং সেখানে একটি সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এর ফলে দুর্গন্ধে দর্শনার্থীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এবং বনের পাখি, বানরসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক বাসস্থান ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।তিনি আরও বলেন, বন বিভাগ একাধিকবার আপত্তি জানিয়েছে এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি অবহিত করা হলেও গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন কার্যত কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়নি। বরং আইন ও পরিবেশগত ঝুঁকির বিষয়গুলো উপেক্ষা করে প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, উন্নয়নের নামে পরিবেশ ধ্বংস কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা দাবি করেন, গত এক যুগেও গাজীপুর মহানগরে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। নগরীর অনেক এলাকায় এখনো সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় ময়লা-আবর্জনা নদী, খাল ও জলাশয়ে গিয়ে পড়ছে। অথচ সংরক্ষিত বনভূমিতে নতুন প্রকল্প গ্রহণ করে জনগণের অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি পরিবেশ ধ্বংসের পথ তৈরি করা হচ্ছে। সদস্য সচিব রাব্বি খান বলেন, “ভাওয়ালের শালবন শুধু গাছের সমষ্টি নয়, এটি গাজীপুরের পরিবেশগত ভারসাম্যের প্রধান ভিত্তি। এই বন রক্ষা করা রাষ্ট্র, স্থানীয় প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের যৌথ দায়িত্ব।যুগ্ম আহ্বায়ক আরমান হোসাইন বলেন, “আমরা উন্নয়নের বিরোধী নই। আমরা চাই পরিবেশবান্ধব, পরিকল্পিত ও টেকসই উন্নয়ন। বন ধ্বংস করে কোনো উন্নয়ন দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। সংবাদ সম্মেলন থেকে সংগঠনের পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো— ১. ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের অভ্যন্তরে বর্জ্য ট্রান্সফার স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে বাতিল করতে হবে। ২. ইতোমধ্যে ফেলা সব বর্জ্য অপসারণ করে বনভূমি পুনরুদ্ধার করতে হবে। ৩. বিকল্প স্থান নির্বাচনে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বন বিভাগের সমন্বয়ে স্বচ্ছ ও বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। ৪. আইন লঙ্ঘন করে প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। ৫. গাজীপুর মহানগরের সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা জনসম্মুখে প্রকাশ করে নাগরিকদের মতামতের ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করতে হবে। সংবাদ সম্মেলনের শেষে ইঞ্জিনিয়ার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, ভাওয়ালের শালবন রক্ষায় অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হোক।অন্যথায় পরিবেশবাদী সংগঠন, স্থানীয় জনগণ ও সচেতন নাগরিকদের নিয়ে বৃহত্তর শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে ভাওয়ালের শালবন রক্ষায় আমরা শেষ পর্যন্ত রাজপথে থাকব। সংবাদ সম্মেলন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান