গাজীপুর সদর উপজেলায় অবৈধ ইটভাটার জন্য প্রতিদিন রাতের আঁধারে এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে অবাধে মাটি কেটে আনা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন নষ্ট হচ্ছে ফসলি জমি, অন্যদিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। বিশেষ করে ভাওয়াল মির্জাপুর থেকে পিরুজালী সড়ক এবং পাইনশাইল বাজার থেকে মসজিদের রাস্তায় মাটি পড়ে থাকায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন রাতে ট্রাক ও ট্রলিতে করে আনা মাটি রাস্তায় পড়ে থাকছে। শুকিয়ে গেলে সেই মাটি ধুলাবালিতে পরিণত হয়ে পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন চলাচলকারী হাজার হাজার মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ধুলাবালির কারণে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের শ্বাসকষ্টসহ নানা শারীরিক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, রাস্তায় পড়ে থাকা মাটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। মোটরসাইকেল ও সাইকেল আরোহীদের জন্য ঝুঁকি বেড়েছে কয়েকগুণ, ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এমনকি পথচারীরাও নিরাপদে চলাচল করতে পারছেন না। এই পরিস্থিতিতে বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে এলাকার কয়েক জনে,নিজ উদ্যোগে রাস্তায় পড়ে থাকা মাটি পরিষ্কারের কাজ শুরু হয়েছে। কোদাল দিয়ে জমে থাকা মাটি সরানোর এই কাজ পরিচালনা করছেন দেলোয়ার, শাহজাহান, সানজিদুল ইসলাম শান্ত, হেলালসহ আরও কয়েকজন সচেতন ব্যক্তি। ভাওয়াল মির্জাপুর থেকে নৃহাশ পল্লী হয়ে পিরুজালী পর্যন্ত দীর্ঘ এই সড়ক বর্তমানে সাধারণ মানুষের চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা আরও জানান, প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় অবৈধ ইটভাটার মালিকরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। দ্রুত অবৈধভাবে মাটি কাটা বন্ধ করা, রাস্তায় জমে থাকা মাটি নিয়মিত পরিষ্কার করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তারা। এলাকাবাসীর একটাই দাবি—অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদ, পরিবেশ ও জনস্বার্থ রক্ষা এবং নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক, যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে