গাজীপুর সদর উপজেলা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের পিরুজালী ইউনিয়ন শাখার সভাপতি পদে মোঃ সাদিকুর রহমান খান শুভকে দায়িত্ব দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের করা একটি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি সাদিকুর রহমান শুভকে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদে রাখা হয়েছে। মামলার নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০ জুলাই ২০২৪ তারিখে
গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ১৩৬ নম্বর আসামি হিসেবে ‘সাদিকুর রহমান শুভ’-এর নাম উল্লেখ রয়েছে। মামলার নথিতে তার ঠিকানা গাজীপুর সদর উপজেলার পিরুজালী ইউনিয়নের বরতাপাড়া এলাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ওইদিন আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার সময় আসামিরা বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র, আগ্নেয়াস্ত্র, ককটেল, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায়।মামলার বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার সময় গুলি ও ককটেলের আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরবর্তীতে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।এদিকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষকদল গাজীপুর সদর উপজেলা শাখার অনুমোদিত পিরুজালী ইউনিয়ন কমিটির তালিকায় ‘মোঃ সাদিকুর রহমান খান শুভ’-কে সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে একই ব্যক্তির নাম জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের করা হত্যা মামলার এজাহারে আসামি হিসেবে থাকার পরও কীভাবে তিনি কৃষকদলের ইউনিয়ন সভাপতির দায়িত্ব পেলেন—এ নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, পিরুজালী ইউনিয়ন কৃষকদলের কমিটি গঠনের আগে ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ বা পরামর্শ করা হয়নি।পিরুজালী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ স্থানীয় বিএনপির অনেক নেতাই কমিটি গঠনের বিষয়টি জানেন না বলে দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, গাজীপুর সদর উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান হারুন এবং সদস্য সচিব আমিনুল ইসলামের অনুমোদনে পিরুজালী ইউনিয়ন কৃষকদলের কমিটি গঠন করা হলেও ইউনিয়ন বিএনপির সঙ্গে কোনো সমন্বয় করা হয়নি। ফলে স্থানীয় তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে এ নিয়ে প্রশ্ন ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের একাংশের প্রশ্ন, জুলাই আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলন করে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বহু নেতাকর্মী মামলা, হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সেই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়ের করা হত্যা মামলায় নাম থাকা কোনো ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদে দায়িত্ব দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করেছে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের মতে, কোনো মামলায় আসামি হওয়া মানেই কেউ অপরাধী প্রমাণিত নন। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত একজন আসামি আইনগতভাবে নির্দোষ। তবে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদে দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে চলমান মামলার বিষয়টি দলীয়ভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না—এ বিষয়ে স্বচ্ছতা থাকা প্রয়োজন। এ বিষয়ে মোঃ সাদিকুর রহমান খান শুভ, গাজীপুর সদর উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান হারুন এবং সদস্য সচিব আমিনুল ইসলামের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে