টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জসহ দেশের একাধিক জেলা বন্যায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, আবার কোথাও পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বন্যার কারণে বহু সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কৃষিজমি, মাছের ঘের ও বসতবাড়ি পানিতে ডুবে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। অনেক পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছে এবং বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট দেখা দিয়েছে। এদিকে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন, সেনাবাহিনী, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিস, কোস্ট গার্ড এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। দুর্গত এলাকায় শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধসহ জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজ অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি বন্যাকবলিত এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।এ অবস্থায় নদী তীরবর্তী ও নিচু এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, অতিবৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আকস্মিক বন্যার প্রবণতা বেড়েছে। তাই দীর্ঘমেয়াদি বন্যা ব্যবস্থাপনা, নদী রক্ষণাবেক্ষণ এবং কার্যকর দুর্যোগ প্রস্তুতির ওপর আরও গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা