দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের কেন্দ্রীয় কমিটি না থাকায় নেতা কর্মীরা হতাশয় ভুগছে। বিএনপি’র নয়টি অঙ্গসংগঠনের মধ্যে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল অন্যতম। ২০১৯ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বীর মুক্তিযোদ্ধার রফিকুল ইসলাম মাহতাবকে আহ্বায়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা আবদুর রহিমকে সদস্য সচিব করে ১৫৪ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কতটি গঠিত হয়। কমিটি গঠণের পরেই কেন্দ্রের তত্ত্বাবধানে সারাদেশের জেলা, উপজেলায় নতুন সদস্য সংগ্রহ ও পুরনো দের সদস্য পদ নবায়ন করা হয় এবং জেলা, উপজেলা ও ইউরিন পর্যায় কমিটি গঠন করা হয়। সমর্থের সবটুকু উজাড় করে দিয়ে বিগত স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে দলটির নেতাকর্মীরা রাজপথের আন্দোলনে সক্রিয় ছিল। বিশেষ করে ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরের পর আন্দোলনে দলটির ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ। তারা হরতাল, অবরোধ, মিছিল, পথসভা, লিফলেট বিতরণ, রাজপথ, রেলপথ, নৌপথ অবরোধ করেন। সারাদেশের অসংখ্য নেতাকর্মী কারানির্যাতন ভোগ করেছে। গুম, খুন, হত্যা, নির্যাতনের তালিকায়ও অসংখ্য নেতাকর্মীর নাম রয়েছ। বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে স্বৈরাচারের পেটুয়া পুলিশ বাহিনীর লাগানো তালা ভাঙ্গার সময় একবার রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে এবং আরেকবার আসাদুজ্জামান রিপনের নেতৃত্বে মৎস্যজীবী দন উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখেন। আন্দোলনের সময় অনেকেই প্রতিষ্টিত ব্যবসা-বাণিজ্য ও নিজ নিজ কর্ম হারিয়ে পলাতক অবস্থায় মানবতার জীবন যাপন করে। তার পরও আন্দোলনের মাঠে তারা যে সাহস দেখিয়েছে তা প্রশংসার যোগ্য। ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর ২২ আগস্ট সংগঠনের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম মাহতাব বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেলে অবাক এর পদ শূন্য হয়। পরবর্তীতে শূন্যস্থান পূরণ না করে সেপ্টেম্বরের ২৩ তারিখে দপ্তরের দায়িত্বে নিয়োজিত বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাড: রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরে দলটির কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। প্রায় এক বছর ৮ মাস সংগঠনটির কমিটি নেই। এতদিন কেন্দ্রীয় কমিটি না থাকায় জেলা উপজেলা পর্যায়ে অনেক সাংগঠনিক সংকট ও শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। সমাধানের আশায় জেলার নেতৃবৃন্দ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে অবহিত করলেও কমিটি না থাকায় এগুলি সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে না। সাবেক কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আব্দুর রহিম কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দদেরকে নিয়ে মিছিল মিটিং চালিয়ে গেলও সাংগঠনিক সমস্যা দূর করতে পারছেন না। ৫ আগস্টের পর সৃষ্ট রাজনৈতিক বসন্ত মৎস্যজীবী দলের কোন কল্যাণে আসেনি। বরংচ কমিটি বিহীন অবস্থায় অনিশ্চয়তার মধ্যে না থাকে অনেকেই বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠন বা বিএনপিতে পদ-পদবি নিয়ে সরে পড়েন। অনুসন্ধানে জানা গেছে দলটিতে আব্দুর রহিম, ওমর ফারুক পাটোয়ারী, অধ্যক্ষ সেলিম মিয়া, জাকির হোসেন খান, জাহাঙ্গীর আলম সনি সহ বেশ কিছু দক্ষ ছাত্রনেতা রয়েছে। ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রশ্নে সভাপতি হিসেবে সাবেক ছাত্রনেতা ও সদ্য সাদেক কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আবদুর রহিমের নাম সকলের আলোচনায় রয়েছে। সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নাদিম চৌধুরীও সভাপতি হতে চান। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দলটির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ও সাবেক ছাত্র নেতা ওমর ফারুক পাটোয়ারী, অধ্যক্ষ সেলিম মিয়া, জাকির হোসেন খান, জাহাঙ্গীর আলম সনি, মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক মোঃ শাহ আলম ও উত্তরের আহ্বায়ক আমির হোসেন আমিরের নাম আলোচনায় রয়েছে। রাজপথের সাহসী নেতা জহিরুল ইসলাম বাসার, তারিকুল ইসলাম মধু, লোকমান হোসেন হাওলাদার, হাজী আনোয়ার হোসেন, মোঃ ইব্রাহিম চৌধুরী, মোঃ মাহবুব আলম সিকদার, ফজলে কাদের সোহেল, জাহিদুল আলম মিলন, আমিরুল ইসলাম, আখতার হোসেন বাবু, আব্দুস সালাম ভূঁইয়া, জুলাই যোদ্ধা মোঃ শাহাদত হোসেন, মোঃ জাহাঙ্গীর আলম ও নোমান হোসেন গুরুত্বপূর্ণ পদ প্রাপ্তির আশায় নেতাদের কাছে ধরনা দিচ্ছেন। মৎস্যজীবী দলের সাবেক সদস্য সচিব আবদুর রহিম এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, “দলের দুঃসময়ে সকল ভয় ভীতি উপেক্ষা করে রাজপথে আন্দোলনে সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছি। কমিটি না থাকায় সুসময়ে আমরা কিছুই করতে পারছি না। মৎস্যজীবী দল শুধু রাজনৈতিক সংগঠন নয়, মৎস্য সেক্টরের উন্নয়নেও কাজ করছে। আশা করি বিএনপি’র চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান দলটির প্রতি সু-নজর দেবেন”। সাবেক ছাত্রনেতা, সোনাইমুড়ি উপজেলা বিএনপির দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনকারী সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দলটির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ওমর ফারুক পাটোয়ারী বলেন- “একজন রাজপথের কর্মী হিসেবে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে আমরা আমাদের সামর্থের সবটুকু উজাড় করে দিয়ে বিগত আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছি। আশা করি দল এই ত্যাগের সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করবে। দীর্ঘদিন কেন্দ্রীয় কমিটি না থাকায় নেতাকর্মীরা হতাশ। সারাদেশে প্রচুর সাংগঠনিক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। সমস্যা সমাধানে কমিটি গঠন অতীব জরুরী। মৎস্য বাংলাদেশের এক সম্ভাবনাময়ী ক্ষেত্র, এই পেশায় লোকজনকে আকৃষ্ট করতে দক্ষ সংগঠকদেরকে দিয়ে কমিটি গঠন করা অতীব জরুরী।