ডেঙ্গু প্রতিরোধে নাগরিক সচেতনতার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেছেন, মশা মশার কাজ করছে, মানুষ হিসেবে আপনি আপনার দায়িত্ব পালন করছেন কিনা সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু সরকারি উদ্যোগ নয়, প্রতিটি নাগরিকের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও দায়িত্বশীল আচরণ অত্যন্ত জরুরি।শনিবার (৬ জুন) সকালে জেলা প্রশাসন, গাজীপুর সিটি করপোরেশন, সিভিল সার্জন কার্যালয় এবং শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও সচেতনতামূলক র্যালি পরবর্তী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বর্ণাঢ্য র্যালিতে জনসচেতনতার বার্তা সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে এসে শেষ হয়। র্যালিতে সরকারি কর্মকর্তা, চিকিৎসক, শিক্ষার্থী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।ঝোপঝাড় ও জমে থাকা পানিতেই লুকিয়ে আছে জীবনসংহারী ডেঙ্গু’— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত কর্মসূচিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতার বিভিন্ন বার্তা তুলে ধরা হয়। স্বচ্ছ পানিতেই জন্ম নেয় এডিস মশা সমাবেশে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলেন, ডেঙ্গু কোনো সাধারণ জ্বর নয়; এটি একটি মারাত্মক ভাইরাসজনিত রোগ, যা এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে ‘এডিস ইজিপ্টাই’ প্রজাতির স্ত্রী মশা ঘরের ভেতর বা আশপাশে জমে থাকা স্বচ্ছ ও স্থির পানিতে ডিম পাড়ে। চিকিৎসকরা জানান, ফুলের টব, অব্যবহৃত টায়ার, ভাঙা পাত্র, ডাবের খোসা কিংবা ছাদের কোণায় জমে থাকা অল্প পানিতেও এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে। তাই বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। ডেঙ্গুর ঝুঁকি ও করণীয় বিশেষজ্ঞরা জানান, ডেঙ্গু ভাইরাস শরীরে প্রবেশ করলে রক্তের প্লাটিলেট কমে যেতে পারে। রোগ জটিল আকার ধারণ করলে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ, শক সিনড্রোম এবং অঙ্গ বিকল হওয়ার মতো ঝুঁকি দেখা দিতে পারে। তাই জ্বর দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার বিকল্প নেই। তারা ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ করণীয় তুলে ধরেন—১. উৎস ধ্বংস: কোথাও তিন দিনের বেশি পানি জমতে না দেওয়া। ২. ব্যক্তিগত সুরক্ষা: শরীর ঢাকা পোশাক পরা, মশারি ব্যবহার এবং মশা প্রতিরোধক ব্যবহার করা। ৩. দ্রুত চিকিৎসা: জ্বর বা ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা করানো এবং চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা। জেলা প্রশাসকের কঠোর বার্তা সমাবেশে জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, প্রতিটি পরিবারকে সপ্তাহে অন্তত একদিন নিজেদের বাড়িঘর, আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। এই দায়িত্ব কোনো একক প্রতিষ্ঠানের নয়, এটি সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। তিনি আরও বলেন, আমরা যদি নিজেদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হই, তাহলে ডেঙ্গুবাহী মশা আমাদের এবং আমাদের প্রিয়জনদের জন্য ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনবে। তাই যেখানে পানি জমে থাকতে পারে, সেসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে। ডেঙ্গুমুক্ত গাজীপুর গড়তে নাগরিকদের সচেতনতা ও অংশগ্রহণই সবচেয়ে বড় শক্তি বলে উল্লেখ করেন তিনি। গাজীপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন ও স্বাস্থ্য বিভাগের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সচেতনতামূলক র্যালিতে অংশগ্রহণকারীদের