বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও আর্জেন্টিনার প্রখ্যাত সাহিত্যিক ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোর সম্পর্ক বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম আলোচিত ও রহস্যময় অধ্যায়। সেই ঐতিহাসিক ও মানবিক সম্পর্ককে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে বিশ্লেষণ করে কবি, লেখক ও সাংবাদিক শাহান সাহাবুদ্দিন রচনা করেছেন ‘রবীন্দ্রনাথ-ভিক্টোরিয়া আখ্যান’। বহুল প্রতীক্ষিত এই রচনাটি প্রকাশিত হতে যাচ্ছে সাহিত্যপত্র ‘শব্দঘর’-এর নতুন সংখ্যায়। ১৯২৪ সালে পেরু সফরের পথে অসুস্থ হয়ে আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেসে অবস্থান করতে বাধ্য হন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। সে সময় আর্জেন্টিনার বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবী ভিক্টোরিয়া ওকাম্পো তাঁর সেবাযত্নের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং সান ইসিদ্রোর ‘মিরালরিও’ ভবনে প্রায় দুই মাসেরও বেশি সময় তাঁর থাকার ব্যবস্থা করেন। বহু আগে থেকেই ‘গীতাঞ্জলি’ পাঠে রবীন্দ্রনাথের প্রতি গভীর অনুরাগী ছিলেন ওকাম্পো। সেই পরিচয় পরবর্তীতে গড়ে ওঠে এক অনন্য মানবিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনে। গবেষকদের মতে, আর্জেন্টিনায় অবস্থানকালে রবীন্দ্রনাথের সৃজনশীলতায় এই সম্পর্কের গভীর প্রভাব পড়ে। তিনি ভিক্টোরিয়া ওকাম্পোকে ‘বিজয়া’ নামে সম্বোধন করতেন এবং তাঁকে উৎসর্গ করে একাধিক কবিতা রচনা করেন। দীর্ঘদিন তাঁদের মধ্যে চিঠিপত্রের আদান-প্রদান চলতে থাকে। ১৯৩০ সালে প্যারিসে পুনর্মিলনের সময় ওকাম্পো রবীন্দ্রনাথের আঁকা ছবির প্রথম আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর আয়োজনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বাংলা ও আন্তর্জাতিক সাহিত্যসমালোচনায় এই সম্পর্ককে কখনো বন্ধুত্ব, কখনো গভীর মানসিক অনুরাগ, আবার কখনো আধ্যাত্মিক প্রেম হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তবে উভয়েই কখনো প্রকাশ্যে তাঁদের সম্পর্ককে রোমান্টিক বলে সংজ্ঞায়িত করেননি। অধিকাংশ গবেষকের মতে, এটি ছিল পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বৌদ্ধিক বিনিময়, গভীর আবেগ ও মানবিক টানের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। শব্দঘর’-এর নতুন সংখ্যায় প্রকাশিতব্য শাহান সাহাবুদ্দিনের এই রচনায় রবীন্দ্রনাথ-ওকাম্পো সম্পর্কের নানা অজানা দিক ও নতুন ব্যাখ্যা উঠে এসেছে বলে জানা গেছে। সাহিত্যপ্রেমী ও গবেষকদের কাছে এটি বিশেষ আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। উল্লেখ্য, সংখ্যাটির প্রচ্ছদ শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের আঁকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের প্রতিকৃতি অবলম্বনে নান্দনিকভাবে নির্মাণ করেছেন ধ্রুব এষ।