গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর রেঞ্জের মনিপুর বিটে অবৈধ দখলমুক্ত করা ১০.২৪ একর বনভূমিতে ১১ হাজারের বেশি মিশ্র প্রজাতির বনজ ও ফলদ চারা রোপণ করেছে বন বিভাগ। গত ২৭ জুলাই এ বনায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়। বৃক্ষরোপণ শেষে বন বিভাগের পক্ষ থেকে সংবাদকর্মীদের এ তথ্য জানানো হয়। রাজেন্দ্রপুর রেঞ্জ অফিসার জুয়েল রানার সার্বিক তত্ত্বাবধান ও দিকনির্দেশনায় এবং মনিপুর
বিট কর্মকর্তা আব্দুল মান্নানের নেতৃত্বে এ কর্মসূচি পরিচালিত হয়। এ সময় মনিপুর বিটের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উদ্ধার হওয়া বনভূমিতে বিভিন্ন প্রজাতির চারা রোপণ করেন। বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বনভূমি উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে বনায়ন করা হলে পুনরায় দখলের সুযোগ অনেকাংশে কমে যায়। এ কারণে উদ্ধার হওয়া জমিতে দ্রুত চারা রোপণ করা হয়েছে। মনিপুর বিট কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান বলেন, “বনভূমি রক্ষা ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং বনায়ন কার্যক্রম একযোগে চলবে। উদ্ধার হওয়া প্রতিটি বনভূমিকে সবুজে ফিরিয়ে আনাই আমাদের লক্ষ্য। বন সংরক্ষণে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উদ্ধার হওয়া বনভূমিতে নিয়মিত পরিচর্যা করা হবে, যাতে রোপণ করা চারাগুলো সুস্থভাবে বেড়ে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, আব্দুল মান্নান মনিপুর বিটে যোগদানের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বনভূমি উদ্ধার করেছেন।তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত প্রায় ৩০ বছরে মনিপুর বিটে এত ব্যাপকভাবে বনভূমি উদ্ধার ও পুনর্বনায়নের উদ্যোগ কোনো বিট কর্মকর্তার সময়ে দেখা যায়নি। এ কারণে এলাকাবাসীর অনেকেই তাঁকে মনিপুর বিটের একজন সফল, কর্মঠ ও দায়িত্বশীল বিট কর্মকর্তা হিসেবে মূল্যায়ন করছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজেন্দ্রপুর রেঞ্জ অফিসার জুয়েল রানা দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে রেঞ্জের আওতাধীন বিভিন্ন বিটে বনভূমির অবৈধ দখল প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বনভূমি দখল, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ কিংবা গাছ কাটার তথ্য পেলেই তিনি সংশ্লিষ্ট বিট কর্মকর্তাদের নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান পরিচালনা এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। স্থানীয়দের দাবি, তাঁর তদারকি ও কঠোর অবস্থানের কারণে নতুন করে বনভূমি দখলের প্রবণতা অনেকাংশে কমেছে এবং বন রক্ষায় মাঠ পর্যায়ের কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হয়েছে। পরিবেশ সচেতন মহলের মতে, অবৈধ দখলমুক্ত ১০.২৪ একর বনভূমিতে ১১ হাজারের বেশি মিশ্র প্রজাতির চারা রোপণ বন সংরক্ষণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তাদের মতে, উদ্ধার হওয়া বনভূমিতে দ্রুত বনায়ন, নিয়মিত পরিচর্যা এবং অবৈধ দখল প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকলে রাজেন্দ্রপুর রেঞ্জে বনভূমি রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক ফল মিলবে