গাজীপুরের শ্রীপুরে সরকারি বনভূমি অবৈধ দখলমুক্ত করতে গিয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. বশির আল মামুন। এ সময় তিনি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, বনভূমি দখলকারী, সরকারি কাজে বাধাদানকারী এবং হামলার সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। মঙ্গলবার (১ জুলাই) তিনি শ্রীপুর উপজেলার হামলার ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে আহত বন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের খোঁজখবর নেন এবং বন বিভাগের সদস্যদের দায়িত্ব পালনে সাহসিকতার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “বনভূমি রাষ্ট্রের সম্পদ। এই সম্পদ রক্ষায় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যারা হামলার শিকার হয়েছেন, তাদের প্রতি বন বিভাগ সবসময় পাশে থাকবে। দখলদার ও হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনের সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। ডিএফও আরও বলেন, বনভূমি দখল করে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী আইনের ঊর্ধ্বে নয়। বন রক্ষায় চলমান উচ্ছেদ অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং সরকারি কাজে বাধা প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে। এর আগে বন বিভাগের অভিযানে হামলার ঘটনায় শ্রীপুর থানায় সরকারি কাজে বাধা, হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পরপরই শ্রীপুর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ ও বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বন বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানের সময় সংঘবদ্ধ দখলকারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে রেঞ্জ কর্মকর্তাসহ মোট ১৬ জন বন কর্মকর্তা ও কর্মচারী আহত হন।হামলাকারীরা বন বিভাগের সরকারি গাড়িও ভাঙচুর করে, যা সরকারি সম্পদের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, হামলার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বন বিভাগও স্পষ্ট করেছে, অবৈধ দখলমুক্ত করার অভিযান কোনোভাবেই থামবে না। বরং বনভূমি রক্ষায় প্রশাসন আরও কঠোর অবস্থানে থেকে অভিযান পরিচালনা করবে। বন সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বন কর্মকর্তাদের ওপর এ ধরনের হামলা শুধু সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা নয়, এটি রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষার প্রচেষ্টার ওপরও একটি গুরুতর আঘাত। তাই জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন পরিবেশ ও বন সংরক্ষণে সচেতন মহল।