২৬ অক্টোবর ২০২৫: আন্তর্জাতিক মিঠাপানির ডলফিন দিবস ২০২৫ উদযাপন উপলক্ষ্যে আজ রবিবার সকাল ১০টায় বন ভবন, হৈমন্তি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় ডলফিন ও নদী সংরক্ষণকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা ও সচেতনতার আহ্বান জানানো হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। সভা পরিচালনা করেন বন অধিদপ্তরের প্রধান বন
সংরক্ষক জনাব আমীর হোসাইন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বন অধিদপ্তরের উপপ্রধান বন সংরক্ষক জনাব মোঃ রকিবুল হাসান মুকুল। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জনাব সানাউল্ল্যা পাটওয়ারী, বন সংরক্ষক, বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চল। অঙ্গভঙ্গি ও বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা করেন জনাব মোঃ রেজাউল করিম চৌধুরী, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ, বাগেরহাট ও ড. মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, কান্ট্রি ডিরেক্টর ও ডলফিন বিশেষজ্ঞ, ডাব্লিউএসসি বাংলাদেশ। অনুষ্ঠানে ‘গাঙ্গেয় ডলফিন সংরক্ষণ হ্যান্ডবুক’ এর মোড়ক উন্মোচন করা হয় এবং ডলফিন বিষয়ক শিক্ষামূলক প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়, যা দর্শক ও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে জন্ম দেয় ব্যাপক হতচকিত ও উৎসাহী প্রতিক্রিয়া। প্রধান অতিথি সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান তার বক্তব্যে ডলফিনকে দেশের নদীর সুস্থতার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ডলফিন যেখানে টিকে থাকে, সেখানে নদীও টিকে থাকে আর নদী টিকে থাকলেই মানুষ বাঁচে। ডলফিন নিয়ে কথা বলা মানে আমাদের বেঁচে থাকার কথাই বলা। নদীর পানি যদি দূষিত হয়, তা ডলফিনের জন্যই বিপদ নয়, মানুষের জনজীবনেরও হুমকি। তিনি আরও জানান যে বন্যপ্রাণী হত্যা রোধে আনা হতে যাওয়া নতুন আইনে জড়িত অপরাধে জামিনের সুযোগ আর থাকছে না, যা শাস্তি প্রয়োগ ও রক্ষায় শক্তি যোগাবে বলে আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি তিনি বনাঞ্চল ও নদীবেষ্টিত অঞ্চলে নির্দোষ প্রাণীর ওপর হামলা ও অবৈধ শিকার বন্ধে কঠোর নজরদারি ও জনসচেতনতার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। আলোচনায় বক্তারা নেট ফাঁদ, বিষ প্রয়োগ, অনিয়ন্ত্রিত জেলে এবং নদীপথে বর্জ্য ফেলা এসবকে ডলফিনের প্রধান হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেন। ডিজিটাল সচিত্র প্রতিবেদন ও ক্ষেত্রভিত্তিক উদাহরণ তুলে ধরে বক্তারা স্থানীয় জনগণ, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহকে কৌশলগতভাবে সংযুক্ত করার আহ্বান জানান, উপসঞ্চালক ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “গঙ্গেয় ডলফিনের বেঁচে থাকার জন্য জরুরি প্রয়োজন নদীর জৈবিক বৈচিত্র্য রক্ষা ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনা, শুধুমাত্র আইন নয় স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ ও বিকল্প রোজগার কর্মসূচিও সমানভাবে প্রয়োজন। অবশেষে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা গঙ্গীয় ডলফিন সংরক্ষণের ওপর দৃষ্টি কাড়তে এবং বাস্তবকানায় পরিণত করার লক্ষ্যে দ্রুত কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান। ‘গাঙ্গেয় ডলফিন সংরক্ষণ হ্যান্ডবুক’ এবং প্রদর্শনীটি শিক্ষার্থীদের ও সাধারণ দর্শকদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ উদ্দীপিত করে প্রতীকীভাবে সচেতনতা বাড়াতে এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করা হয়