গাজীপুরে পিরুজালী এলাকায় ছড়িয়ে রয়েছে শতবর্ষী কাঁঠাল গাছ। যা ফলন দিয়ে যাচ্ছে বছরের পর বছর। শুধু শতবর্ষীই নয় ,অনুমান ২০০ বছরের পুরনো একটি কাঁঠাল গাছ ঐতিহ্য এবং বিস্ময়ের নিদর্শন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।সদর উপজেলার ওই পিরুজালি এলাকার লুৎফুর রহমানের বাড়ির পাশে জমিতে বিস্তৃত এলাকা জুড়ে ওই গাছটি কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। স্থানীয় বৃদ্ধরা জানালেন, তাদের শৈশব থেকেই ওই কাঁঠাল গাছটির চিত্র এরকমই। প্রতিবছর ওই গাছে ডালে ডালে শত শত কাঠাল জন্মে। বৃহদাকার এই গাছের শিকড় থেকে আরেকটি গাছের জন্ম হয়েছে। ঝড়ে নুয়ে পড়া বৃহৎ আকার ওই কাঁঠাল গাছটির কাঁঠাল বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন মালিক লুৎফুর রহমান। স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠ মুরুব্বীরা ধারণা করছেন যে ১৯০০ সালের আগেই এই গাছটি ফলন দেয়া শুরু করে। ঝড়ে গাছটির নুয়ে পড়ার বছরকাল এলাকার কেউ অনুমান করতে পারছেন না। ওই গাছটির শিকড় থেকে আরেকটি কাঁঠাল গাছের জন্ম হয়েছে। যা অবাক করার মতো। কাঁঠালের এই ভরা মৌসুমে দূর এলাকা থেকে অনেকেই এই গাছের কাঁঠাল কিনতে আসেন। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম বেঁচে থাকা এই গাছটি এখন কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। জানালেন এলাকার বয়োবৃদ্ধ মনিরুজ্জামান। ওই এলাকায় শতবর্ষী ছাড়াও ৭০-৮০ বছরের অধিক কালের রোপিত কাঁঠাল গাছ রীতিমতো ফলন দিচ্ছে । স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা কলেজের কৃষি বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ডক্টর জেবুন্নেসা এ প্রতিনিধিকে জানান, যত্নে রূপিত কাঁঠাল গাছ প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ফলন দিতে পারে। একটি পরিবারের আয়ের উৎস হতে পারে এমন বৃক্ষ রোপন। কাঁঠাল, কাঁঠালের বীজ, কাঁঠাল কাঠ, খড়ি, সবকিছুই একটা পরিবারের জন্য সম্পদ। দীর্ঘ বছর কাঁঠাল গাছ বেঁচে থেকে মানুষদেরকেও বাঁচিয়ে রাখে। পুরনো ওই কাঁঠাল বৃক্ষটি এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। বৃহদাকার পুরনো ওই কাঁঠাল গাছটি দেখতে অনেক মানুষ ভিড় করেন ও কাঁঠাল কিনতে আসেন। গাছটির সুস্বাদু কাঁঠাল সবুজ কালারের ও বড়ো আকৃতির। কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সুব্রত নন্দী জানালেন, যে কোন ফলদ গাছ রোপন করা লাভজনক। অধিক লাভজনক বিধায় প্রত্যেকেই রোপন করতে পারেন কাঁঠাল চারা । যা যুগে যুগে ফল উপহার দিয়ে যাবে।