গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী গাজীপুরের কৃতি সন্তান প্রয়াত তাজ উদ্দিন আহমেদ স্মরণে গাজীপুরের প্রাণকেন্দ্রে সরকারি এই চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। গাজীপুর সদর হাসপাতাল থেকে উন্নীত হয়ে এই হাসপাতালটিতে জেলার হাজারো রোগী ছাড়াও চিকিৎসা নিচ্ছেন আশেপাশের নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ জেলার রোগীরা। এই হাসপাতালে চিকিৎসায় আধুনিক সেবা এখন রোগীদের হাতের নাগালেই। ৫০০ শয্যার হলেও এই হাসপাতলের ফ্লোর বা মেঝেসহ ১১০০ থেকে ১২০০ রুগি চিকিৎসা সেবা নিতে পারছেন। বর্তমানে হাসপাতালের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ডা আমিনুল ইসলাম। তিনি জানালেন, যথার্থ চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য বিভাগীয় নিয়োগপ্রাপ্ত জনবলের বাইরেও আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে লোকবল নিয়োগ করা হয়। রয়েছে স্বাস্থ্যে বিসিএস ডিগ্রিধারী ও অভিজ্ঞ ১১২ জন চিকিৎসক। রয়েছে ৮৭ জন স্টাফ। রাত ও দিন এই দু শিফটে নার্স রয়েছেন ৪৩০ জন। হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডাঃ সালাম সরকার জানালেন, হাসপাতালে চাহিদা অনুযায়ী রুগিরা পাচ্ছেন ওষুধ। ২৪ ঘন্টা খোলা থাকে হাসপাতাল ফার্মেসী। আউটডোর কার্যক্রম চলে সকাল আটটা থেকে দুপুর ২ টা নাগাদ। আল্ট্রাসনোগ্রাম, রক্ত পরীক্ষার জন্য রোগীদের বাইরে যেতে হয় না। তিনি আরো বলেন,গরিব অসহায় রোগীদের জন্য হাসপাতালে রয়েছে সমাজসেবা কার্যক্রম প্রকল্প। অসহায়, দুস্থ রোগীদের খুঁজে বের করে তাদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হয়। হাসপাতালের প্রশাসন বিভাগের প্রধান সহকারী শশী বললেন, হাসপাতালে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও লিফট সুবিধা রয়েছে। পর্যাপ্ত সংখ্যক পরিচ্ছন্ন কর্মী দিয়ে দিনভর হাসপাতালের আশেপাশে পরিচ্ছন্ন রাখা হয়। সোমবার। সকাল তখন সাড়ে ৯টা। দাঁতের চিকিৎসা নিতে আসা রোগী হাফিজ উদ্দিনসহ ২০-২৫ জন রোগী অপেক্ষা করছিলেন ডেন্টাল ডাক্তারের জন্য। সকাল দশটা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও দায়িত্ব রত ডেন্টাল সার্জন ডাঃ আব্দুল কুদ্দুসকে তারা পেলেন না। ওই রোগীরা ক্ষোভে এই তথ্য জানালেন। হাসপাতলে প্রবেশ করতেই নিচতলায় দেখা গেল রোগীদের আধিক্য। টিকিট কাটার লাইনে ছিল হুলস্থুল। ওই সময় মোবারক হোসেন নামে এক রোগী বললেন, এই হাসপাতালে রয়েছে দালালদের আনাগোনা।গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল শুধু চিকিৎসার জন্য নয় , চিকিৎসা শিক্ষার জন্যও এই প্রতিষ্ঠানটি অনবদ্য ভূমিকা পালন করছে। মেডিকেল কলেজ সেকশনে প্রতিবছর ১০০ জন করে শিক্ষার্থী চার বছর মেয়াদি এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি হয়। নার্সিং শিক্ষায় এ প্রতিষ্ঠানটি ছড়াচ্ছে আলো। হাসপাতালের সিনিয়র স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম জানালেন, রোগীদের আধিক্য দিন দিন বাড়ছে বিধায় চিকিৎসা সেবাদানে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। গাজীপুর সিভিল সার্জন ডাঃ মামুনুর রহমান বললেন, সমস্যার আবর্তে থেকেও এই হাসপাতালটি রোগীদেরকে চিকিৎসা সেবা দানে ভালো ভূমিকা রাখছে। জেলায় এই প্রতিষ্ঠানটি চিকিৎসা বিজ্ঞান শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবার একটি নির্ভরযোগ্য স্বনামধন্য সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে সুপরিচিতি পেয়েছে।