গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গাকৃবি) শারীরিক শিক্ষা শাখার উপ-পরিচালক এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী ফিফা তালিকাভুক্ত রেফারি মোঃ নাজমুল হুদা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে গৌরবময় পদক অর্জন করেছেন। মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে গত ২৬ মার্চ ২০২৬ ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে আয়োজিত তারকা ফুটবলারদের অংশগ্রহণে এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচে রেফারির বিশেষ দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পালন করায় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
তাঁর হাতে এ পদক তুলে দেন।বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) আয়োজিত স্বাধীনতার চেতনায় ফুটবল উৎসব” শীর্ষক এই প্রীতি ম্যাচে লাল ও সবুজ দল অংশ নেয়। খেলায় সবুজ দল ৩-০ গোলে জয়লাভ করে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কন্যা জাইমা রহমান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকসহ ক্রীড়াঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। নাজমুল হুদার এই অর্জন শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্যও এক গৌরবময় অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্নকারী নাজমুল হুদার ক্রীড়া জীবনের যাত্রা শুরু হয় ২০০৭ সালে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের অধীনে বাংলাদেশ ফুটবল রেফারিজ অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত রেফারি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে। ২০০৯ সালে ইরানে অনুষ্ঠিত এএফসি প্রজেক্ট ফিউচার কোর্সে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তাঁর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পথচলা শুরু হয়। পরবর্তীতে নেপাল, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ ও জাপানে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ ও ডেভেলপমেন্ট কোর্সে অংশ নিয়ে তিনি নিজেকে আন্তর্জাতিক মানের রেফারি হিসেবে গড়ে তোলেন। ২০১৪ সালে
সমগ্র এশিয়া থেকে নির্বাচিত মাত্র ছয়জনের একজন হিসেবে এএফসি প্রজেক্ট ফিউচার ডিপ্লোমা কোর্স সফলভাবে সম্পন্ন করেন তিনি। দেশীয় ফুটবলেও তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তিনি রেফারি অ্যাসেসর ও ম্যাচ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের রেফারি তৈরিতে প্রশিক্ষক হিসেবেও সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছেন। দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রম ও সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি তিনি ফিফা রেফারি হিসেবে মনোনীত হন, যা দেশের জন্য এক অনন্য সম্মান বয়ে আনে। গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান এ সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করে নাজমুল হুদাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “নাজমুল হুদার এই অর্জন শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবই নয়, বরং দেশের ক্রীড়াক্ষেত্রে তরুণদের জন্য এক অনুপ্রেরণার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার মনে করে, নিষ্ঠা, অধ্যবসায় ও দেশপ্রেমের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এ সাফল্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ক্রীড়া ও নেতৃত্বের নতুন দিগন্তের দিকে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করবে