গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গাকৃবি) সয়াবিন গবেষণা” বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সয়াবিনের উৎপাদন বৃদ্ধি, গবেষণার অগ্রগতি এবং দেশের অর্থনীতিতে এর সম্ভাবনা তুলে ধরতে আয়োজিত এ কর্মশালায় জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত কনসোর্টিয়াম গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন গাকৃবির উপাচার্য প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এগ্রোমেটিওরোলজি বিভাগের কনফারেন্স রুমে কৃষিতত্ত্ব বিভাগের উদ্যোগে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে সহযোগিতা করে সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়া ও গ্রামীণ ইউগ্লেনা।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষিতত্ত্ব বিভাগের সাবেক প্রফেসর ও দেশের সয়াবিন গবেষণার পথিকৃৎ ড. এম. আব্দুল করিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রো-উপাচার্য প্রফেসর ড. এম. ময়নুল হক এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সফিউল ইসলাম আফ্রাদ। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, পরিচালক, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (আইইউবিএটি) থেকে আগত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এছাড়াও সলিডারিডাড নেটওয়ার্ক এশিয়ার বাংলাদেশের সাপ্লাই চেইন প্রধান মোহাম্মদ মজিবুল হক উপস্থিত ছিলেন। কর্মশালায় সয়াবিনের পুষ্টিগুণ, উৎপাদন সম্ভাবনা, গবেষণার অগ্রগতি এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে এর গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বক্তারা জানান, দেশে বছরে প্রায় ১৬ লাখ মেট্রিক টন সয়াবিনের চাহিদা থাকলেও উৎপাদিত হয় মাত্র ৩ থেকে ৪ লাখ মেট্রিক টন। ফলে প্রতিবছর প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকার সয়াবিন ও সংশ্লিষ্ট পণ্য আমদানি করতে হয়। আলোচনায় আরও উঠে আসে, নোয়াখালী, ভোলা ও লক্ষ্মীপুরের চরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে প্রায় ৬৮ হাজার হেক্টর জমিতে সয়াবিন চাষ হচ্ছে। গবেষকরা মনে করেন, সয়াবিন চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে ভবিষ্যতে রফতানির সম্ভাবনাও তৈরি হবে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, সয়াবিন এমন একটি খাদ্যশস্য যাতে প্রায় ৪০ শতাংশ প্রোটিন রয়েছে, যা মানবদেহ ও প্রাণিখাদ্যের পুষ্টি চাহিদা পূরণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।” তিনি আরও বলেন, “এত গুণাগুণ থাকা সত্ত্বেও দেশে সয়াবিনের সহজলভ্যতা এখনও প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছেনি। এজন্য জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত কনসোর্টিয়াম গঠন প্রয়োজন। তিনি জানান, বর্তমান সরকারের কৃষিবান্ধব নীতির ফলে সয়াবিন গবেষণায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এবং গাকৃবির গবেষণাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। কর্মশালার দ্বিতীয় পর্বে কৃষিতত্ত্ব বিভাগের প্রফেসর ড. এম. এ মান্নান ভেজিটেবল সয়াবিন বিষয়ে তথ্যবহুল প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা গত এক বছরে পরিচালিত সয়াবিন গবেষণা, গবেষণালব্ধ ফলাফল ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন কৌশল নিয়ে বিভিন্ন প্রেজেন্টেশন তুলে ধরেন। উল্লেখ্য, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ত্ব বিভাগ এ পর্যন্ত ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ৬টি সয়াবিনের জাত উদ্ভাবন করেছে।