গাজীপুরের শ্রীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত এক পোশাক শ্রমিকের ঘটনা কভার করতে গিয়ে হুমকি ও ভয়ভীতির শিকার হয়েছেন এক সাংবাদিক। অভিযোগ উঠেছে, তথ্য সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণ করাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এক শ্রমিক দল নেতা সাংবাদিককে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ ও দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। অভিযুক্ত সেলিম ফকির শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সদস্য সচিব বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক মোঃ নাঈম, যিনি দৈনিক দেশ বর্তমান পত্রিকার প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত রয়েছেন, জানান—ঢাকা-কাপাসিয়া সড়কের সাটিয়াবাড়ী এলাকায় কাভার্ড ভ্যানের চাপায় এক পোশাক শ্রমিক নিহত হওয়ার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে তিনি দুর্ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করেন এবং এক পথচারীর মোবাইলে ধারণ করা ভিডিও সংগ্রহ করেন।অভিযোগ রয়েছে, কিছুক্ষণ পর শ্রমিক দল নেতা সেলিম ফকির মোবাইল ফোনে সাংবাদিক নাঈমকে কল দিয়ে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং “দুই মিনিটের মধ্যে সামনে হাজির হতে বলে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এমনকি তাকে “দেখে নেওয়া হবে” বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন সাংবাদিক নাঈম। সাংবাদিক মোঃ নাঈম বলেন, আমি পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছি। কিন্তু একটি দুর্ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করাকে কেন্দ্র করে যেভাবে আমাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে, তা শুধু আমার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য নয়, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্যও হুমকিস্বরূপ। ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত শ্রমিক দল নেতা সেলিম ফকিরের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। এদিকে এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে গাজীপুর সাংবাদিক পরিষদ। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, একজন সাংবাদিককে পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া এবং হুমকি প্রদান সংবিধান স্বীকৃত গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। তারা অবিলম্বে হুমকিদাতার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। সাংবাদিক সমাজের নেতারা আরও বলেন, সত্য প্রকাশের পথ রুদ্ধ করতে ভয়ভীতি ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অপচেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের জন্য অশনিসংকেত। সচেতন মহলের মতে, দেশে সাংবাদিকদের ওপর হুমকি, হামলা ও হয়রানির ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের আরও কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।