June 2, 2026, 4:24 pm
শিরোনাম:
মানসিক ভারসাম্যহীন কিশোরী লামিয়া নিখোঁজ, সন্ধান কামনা পরিবারের হারানো বিজ্ঞপ্তি হজ শেষে দেশে ফিরেই প্রয়াত বিএনপি নেতা ইমান আলীর কবর জিয়ারত করলেন জয়নাল আবেদীন রিজভী অবশেষে বৃষ্টি, স্বস্তিতে পাখিরাও পিরুজালী ইউনিয়ন কৃষক দলের ৪১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন, সভাপতি শুভ ও সম্পাদক ফারুক চিকিৎসা সেবার প্রধান ভরসাস্থল গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর শিক্ষক ও সাংস্কৃতিক কর্মী কার্তিক চন্দ্র সাহা আর নেই গাজীপুর সাফারি পার্কে দর্শনার্থীদের ভীড় পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে গাজীপুরবাসী ও দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জিয়া পরিষদ নেতা মোঃ মাফিকুর রহমান সেলিম পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে গাজীপুরবাসী ও দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জিয়া পরিষদ নেতা মোঃ মাফিকুর রহমান সেলিম ঈদুল আজহা উপলক্ষে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান এর শুভেচ্ছা বার্তা

ভাওয়াল রেঞ্জের নাকের ডগায় সেগুন গাছ উজাড়ের মহোৎসব! অভিযোগের পরও রহস্যজনক নীরব বন বিভাগ, ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী

গাজীপুর প্রতিনিধি

গাজীপুরের ঐতিহ্যবাহী ভাওয়াল বনাঞ্চলে আবারও ভয়াবহ বন উজাড়ের অভিযোগ উঠেছে। এবার গাজীপুর সদর উপজেলার ভবানীপুর মৌজাস্থ ভবানীপুর ফরিদ মার্কেট সংলগ্ন নজরুল মাস্টারের বাড়ির পাশ থেকে একের পর এক মূল্যবান সেগুন গাছ কেটে নেওয়ার ঘটনায় চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। অভিযোগ রয়েছে, বন বিভাগের গেজেটভুক্ত জমিতে থাকা প্রায় ১৮ থেকে ২০টি পূর্ণবয়স্ক সেগুন গাছের মধ্যে ইতোমধ্যে ১০ থেকে ১২টি গাছ রাতের আঁধারে কেটে ট্রাকযোগে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অথচ অভিযোগের পরও রহস্যজনকভাবে নিশ্চুপ রয়েছে সংশ্লিষ্ট বন বিভাগ। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এসএ ১০৮০ ও আরএস ৬৩৯৫ দাগভুক্ত বন বিভাগের গেজেটভুক্ত এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে গাছ কাটা হচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহল একাধিকবার সিংড়াতলী ফরেস্ট অফিস ও ভাওয়াল রেঞ্জ কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবগত করলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, প্রথমদিকে বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গাছ জব্দের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কোনো অভিযান পরিচালনা করা হয়নি। বরং দিনের পর দিন ধাপে ধাপে গাছ কেটে কাঠ পাচার করা হয়েছে। এতে এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন এলাকাবাসী বলেন, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেই শুনেছি পুরো বাগান প্রায় দুই লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। বন বিভাগ সব জানার পরও অদ্ভুতভাবে নিশ্চুপ। বারবার ফোন দিয়েও ভাওয়াল রেঞ্জ কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। তিনি ফোনও ধরেননি। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন—বন বিভাগের নাকের ডগায় কীভাবে গেজেটভুক্ত জমির এত মূল্যবান সেগুন গাছ উজাড় হয়ে যায়? তাহলে কি কোনো অদৃশ্য প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় চলছে এই বন ধ্বংসের মহোৎসব? এ বিষয়ে সিংড়াতলী বিট কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন বলেন, আমি খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। গিয়ে দেখি দুইটি গাছ কাটা হচ্ছে। পরে আমি তাদের বাধা দেই। ওইখানে পাট্টা দাগেরও কিছু অংশ আছে। আমি তাদের ডিমারকেশন করতে বলেছি। আর গাছ কাটতে হলে ডিএফও ও এসিএফের অনুমতি লাগবে। তবে তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওই এলাকা থেকে ইতোমধ্যে প্রায় ১৮ থেকে ২০টি গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবানীপুর বিটে নাসির উদ্দিন যোগদানের পর থেকেই বিঘার পর বিঘা বনভূমি জবরদখল, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ ও গাছ কাটার ঘটনা বেড়েছে। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হলেও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের রহস্যজনক নীরবতায় তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা বলছেন, ভাওয়াল বনাঞ্চল শুধু গাজীপুর নয়, সমগ্র মধ্যাঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বিচারে বন উজাড়ের ফলে জীববৈচিত্র্য ধ্বংস, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল সংকুচিত, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভবিষ্যতে এটি ভয়াবহ পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। পরিবেশ সচেতন মহলের মতে, একটি পূর্ণবয়স্ক সেগুন গাছ তৈরি হতে কয়েক দশক সময় লাগে। অথচ কিছু অসাধু ব্যক্তি আর প্রশাসনিক উদাসীনতার কারণে মুহূর্তেই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে রাষ্ট্রীয় বনসম্পদ। বন রক্ষকরা যদি নীরব দর্শকের ভূমিকায় থাকেন, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ বাংলাদেশ শুধু কল্পনাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে। বাংলাদেশ বন আইন, ১৯২৭ অনুযায়ী সংরক্ষিত বনাঞ্চল বা গেজেটভুক্ত জমির গাছ অবৈধভাবে কর্তন, পরিবহন ও বিক্রি একটি গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ। আইনের ২৬ ধারা অনুযায়ী সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছ কাটা, ক্ষতিসাধন বা বনজ সম্পদ অপসারণের দায়ে জেল-জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। এছাড়া পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী পরিবেশ ও বন ধ্বংসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা চক্রের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে আইনের কঠোর প্রয়োগ না থাকায় বনখেকো সিন্ডিকেট দিন দিন আরও সংঘবদ্ধ ও বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সচেতন মহলের অভিযোগ, বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশ ছাড়া এত বড় আকারে বন উজাড় সম্ভব নয়। তাদের দাবি, “বনভূমি রক্ষার দায়িত্ব যাদের কাঁধে, তারাই যদি দায়িত্বহীনতা কিংবা প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় নীরব থাকে, তাহলে বন রক্ষার আশা করা দুরূহ হয়ে পড়বে। এদিকে এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের শনাক্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, অবশিষ্ট গাছ রক্ষায় জরুরি অভিযান পরিচালনা এবং সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি অবৈধভাবে কাটা গাছ উদ্ধারে বিশেষ অভিযান ও বনভূমি রক্ষায় উচ্চপর্যায়ের নজরদারি জোরদারেরও দাবি উঠেছে।



ফেসবুকে আমরা